ব্যক্তিগত সম্পর্কের সূত্র ধরে ধারণ করা ভিডিওকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূকে ভয়ভীতি দেখানো ও চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে মুন্সীগঞ্জে। এ ঘটনায় নূর আলম শেখ (৩২) নামে এক ধর্মীয় শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নূর আলমের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার তেলগাতী গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের প্রয়াত ইয়াকুব আলী শেখের ছেলে। চার সন্তানের জনক নূর আলম টংগিবাড়ী উপজেলার একটি জামে মসজিদে প্রায় দেড় বছর ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
স্থানীয় একটি শিশুকে বাসায় গিয়ে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার সুবাদে তার মায়ের সঙ্গে পরিচয় হয় অভিযুক্তের। পরবর্তী সময়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে পুলিশের অভিযোগ। একপর্যায়ে ওই নারীর সঙ্গে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও গোপনে ধারণ করেন তিনি।
পুলিশ জানায়, প্রায় এক মাস আগে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটি তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়। এরপর এলাকা ছেড়ে গেলেও ওই নারীর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার চেষ্টা করেন তিনি। পাশাপাশি ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তাকে চাপ দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া যায়।
সর্বশেষ ওই নারীর পরিবারের একজন সদস্যের কাছে অনলাইনে ভিডিও পাঠিয়ে দেখা করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। রাজি না হলে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে অভিযোগ পৌঁছানোর পর রোববার রাতে অভিযান চালায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। রাত সাড়ে ৮টার দিকে শ্রীনগর থানার আওতাধীন একটি মাদ্রাসা থেকে নূর আলমকে আটক করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ঘটনার সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন।
এ ঘটনায় টংগিবাড়ী থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।