সংসদের ভেতরে এক কথা, বাইরে এসে আরেক কথা বলছে একটি গোষ্ঠী। সরকারকে শান্তিতে দেশ পরিচালনা করতে দিতে চায় না তারা। এমন অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক।
শুক্রবার সকালে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের হাফেজ খাতুন ইসলামিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফারুক বলেন, গত ১৬ বছর যারা দেশের গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করেছিল, তারা সরাসরি দৃশ্যপটে না থাকলেও তাদের দোসররা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নতুন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। একটি গোষ্ঠী তথাকথিত এক দফা আন্দোলনের হুমকিও দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বর্তমান সরকারের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে মাত্র আট মাস হয়েছে। হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়েই দায়িত্ব পালন করছেন।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে অনিয়মের বিষয়ে সতর্ক করে সংসদ সদস্য বলেন, তথ্য যাচাই-বাছাইয়ে স্বজনপ্রীতি কিংবা সচ্ছল ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রকৃত দুস্থ ও যোগ্য ব্যক্তিরা যাতে কার্ড পাওয়া থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন তিনি।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে ফারুক বলেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অতীতের মতো প্রভাব খাটিয়ে কেন্দ্র দখলের সুযোগ আর থাকা উচিত নয়। সৎ, পরিচ্ছন্ন ও জনসম্পৃক্ত ব্যক্তিদের নির্বাচিত করার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় কিশোর গ্যাং, ইভটিজিং ও মাদক নির্মূলে সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এরফানুল হক চৌধুরী, সমাজসেবা কর্মকর্তা উপন্যাস চন্দ্র দাস এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও ইয়াকুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক এনামুল হক।
কাবিলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন বাহারের সভাপতিত্বে এবং ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. মহিন উদ্দিন মহিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও নবগঠিত ইয়াকুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।