এক যুগেরও বেশি সময় আগে দুই কিশোরকে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে অপহরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় দিয়েছেন আদালত। এ মামলায় রেজাউল মন্ডল ও শাহীদুল মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যেককে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাদের আরও এক বছর কারাভোগ করতে হবে।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে রাজবাড়ী মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. তহিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত দুজনই পাংশা উপজেলার ধুলিয়াট গ্রামের বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় তারা আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১২ সালের ১০ মে রাতে ফারুক ওরফে মারুফ (১৬) এবং তার খালাতো ভাই আজিজুল ইসলামকে (১২) ভারতে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। এরপর তাদের অপহরণ করে পাচারকারীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
প্রথমে মোটরসাইকেলে করে দুই কিশোরকে পাংশার আজিজ সরদার বাসস্ট্যান্ডে নেওয়া হয়। সেখানে অন্যদের হাতে তুলে দেওয়ার পর পিকআপে করে পোড়াদহ রেলস্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ট্রেনে ওঠানোর পর পানীয়ের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে তাদের অচেতন করা হয়। এরপর ভারতে পাঠানোর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অজ্ঞাত একটি স্থানে আটকে রাখা হয়।
অপহরণের ১৭ দিন পর পাচারকারীদের কবল থেকে পালাতে সক্ষম হয় আজিজুল। পরে যশোর শহরের পালবাড়ীর মুক্তির মোড়ে পৌঁছে একটি চায়ের দোকান থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সে। খবর পেয়ে পাংশা থানা-পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। তবে অপর কিশোর ফারুকের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে ভারতে পাচার করা হয়েছিল।
এ ঘটনায় ফারুকের বাবা একলাস উদ্দিন মালিথা ২০১২ সালের ২৬ মে পাংশা থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করেন। রেজাউল মন্ডলসহ সাত থেকে আটজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।
মামলার তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন পাংশা থানার উপপরিদর্শক কামাল হোসেন ভুঁইয়া। তদন্ত শেষে রেজাউল ও শাহীদুলের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তিনি।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জাহিদ উদ্দিন মোল্লা জানান, মামলার সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পাচারকারীদের সঙ্গে সমন্বয় করে দুই কিশোরকে ভারতে পাঠানোর উদ্দেশ্যে আটকে রাখার বিষয়টি আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। এ ঘটনায় পালিয়ে ফিরে আসা আজিজুলও সাক্ষ্য দিয়েছেন।
আদালতের রায়ে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৭ ধারায় দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। একই আইনের ১০(১) ধারায় প্রত্যেককে আরও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই জরিমানা অনাদায়ে অতিরিক্ত ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।